الكتاب المقدس (Van Dyke)

Bengali:NT

Luke

18

1وقال لهم ايضا مثلا في انه ينبغي ان يصلّى كل حين ولا يمل
1নিরাশ না হয়ে তাদের য়ে সব সময় প্রার্থনা করা উচিত, তা বোঝাতে গিয়ে যীশু তাদের এই দৃষ্টান্তটি দিলেন,
2قائلا. كان في مدينة قاض لا يخاف الله ولا يهاب انسانا.
2তিনি বললেন, ‘কোন এক শহরে একজন বিচারক ছিলেন৷ তিনি ঈশ্বরকে ভয় করতেন না, আবার মানুষকে গ্রাহ্য় করতেন না৷
3وكان في تلك المدينة ارملة. وكانت تأتي اليه قائلة انصفني من خصمي.
3সেই শহরে একজন বিধবা ছিল৷ সে বার বার সেই বিচারকের কাছে এসে বলত, ‘আপনাকে দেখতে হবে য়েন আমার প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে আমি ন্যায় বিচার পাই!’
4وكان لا يشاء الى زمان. ولكن بعد ذلك قال في نفسه وان كنت لا اخاف الله ولا اهاب انسانا
4কিছু দিন ধরে সেই বিচারক তার কোন কথাই শুনতে চাইলেন না৷ কিন্তু এক সময় তিনি মনে মনে বললেন, ‘যদিও আমি ঈশ্বরকে ভয় করি না আর মানুষকে মানি না,
5فاني لاجل ان هذه الارملة تزعجني انصفها لئلا تأتي دائما فتقمعني.
5তবু এই বিধবা যখন আমায় এত বিরক্ত করছে তখন আমি দেখব সে য়েন ন্যায় বিচার পায়, তাহলে সে আর বার বার এসে আমাকে জ্বালাতন করবে না৷”
6وقال الرب اسمعوا ما يقول قاضي الظلم.
6এরপর প্রভু বললেন, ‘লক্ষ্য কর! ঐ অধার্মিক বিচারকর্তা কি বলল৷
7أفلا ينصف الله مختاريه الصارخين اليه نهارا وليلا وهو متمهل عليهم.
7তাহলে ঈশ্বর কি তাঁর মনোনীত লোকেরা, যাঁরা দিন-রাত তাঁকে ডাকছে, তারা য়েন ন্যায় বিচার পায় তা দেখবেন না? তিনি কি তাদের সাহায্য করতে অযথা দেরী করবেন?
8اقول لكم انه ينصفهم سريعا. ولكن متى جاء ابن الانسان ألعله يجد الايمان على الارض
8আমি তোমাদের বলছি, তিনি তাদের পক্ষে ন্যায় বিচার করবেনই আর তা তাড়াতাড়িই করবেন৷ যাইহোক, মানবপুত্র যখন আসবেন, তখন কি তিনি এই পৃথিবীতে বিশ্বাস দেখতে পাবেন?’
9وقال لقوم واثقين بانفسهم انهم ابرار ويحتقرون الآخرين هذا المثل.
9যাঁরা নিজেদেরকে ধার্মিক মনে করত আর অন্যকে তুচ্ছ করত, তাদের উদ্দেশ্যে তিনি এই দৃষ্টান্তটি দিলেন,
10انسانان صعدا الى الهيكل ليصلّيا واحد فريسي والآخر عشار.
10‘দুজন লোক মন্দিরে প্রার্থনা করার জন্য গেল; তাদের মধ্যে একজন ফরীশী আর অন্য জন কর-আদায়কারী৷
11اما الفريسي فوقف يصلّي في نفسه هكذا. اللهم انا اشكرك اني لست مثل باقي الناس الخاطفين الظالمين الزناة ولا مثل هذا العشار.
11ফরীশী দাঁড়িয়ে নিজের সম্বন্ধে এইভাবে প্রার্থনা করতে লাগল, ‘য়ে ঈশ্বর, আমি তোমায় ধন্যবাদ দিচ্ছি য়ে আমি অন্য সব লোকদের মতো নই; দস্য়ু, প্রতারক, ব্যভিচারী অথবা এই কর-আদায়কারীর মতো নই৷
12اصوم مرتين في الاسبوع واعشر كل ما اقتنيه.
12আমি সপ্তাহে দ’ুদিন উপোস করি, আর আমার আয়ের দশ ভাগের একভাগ দান করি৷’
13واما العشار فوقف من بعيد لا يشاء ان يرفع عينيه نحو السماء. بل قرع على صدره قائلا اللهم ارحمني انا الخاطئ.
13‘কিন্তু সেই কর-আদায়কারী দাঁড়িয়ে স্বর্গের দিকে মুখ তুলে তাকাতেও সাহস করল না, বরং সে বুক চাপড়াতে চাপড়াতে বলল, ‘হে ঈশ্বর, আমি পাপী! আমার প্রতি দযা কর!’
14اقول لكم ان هذا نزل الى بيته مبررا دون ذاك. لان كل من يرفع نفسه يتضع ومن يضع نفسه يرتفع
14আমি তোমাদের বলছি, এই কর-আদায়কারী ধার্মিক প্রতিপন্ন হয়ে বাড়ি চলে গেল কিন্তু ঐ ফরীশী নয়৷ য়ে কেউ নিজেকে বড় করে তাকে ছোট করা হবে; আর য়ে নিজেকে ছোট করে তাকে বড় করা হবে৷’
15فقدّموا اليه الاطفال ايضا ليلمسهم فلما رآهم التلاميذ انتهروهم.
15লোকেরা একসময় তাদের ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের যীশুর কাছে নিয়ে এল য়েন তিনি তাদের স্পর্শ করে আশীর্বাদ করেন৷ এই দেখে শিষ্যরা তাদের খুব ধমক দিলেন৷
16اما يسوع فدعاهم وقال دعوا الاولاد يأتون اليّ ولا تمنعوهم لان لمثل هؤلاء ملكوت الله.
16কিন্তু যীশু সেই ছেলেমেয়েদের তাঁর কাছে ডাকলেন, আর বললেন, ‘ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের আমার কাছে আসতে দাও, তাদের বারণ কোর না, কারণ এই শিশুদের মতো লোকদের জন্যই তো ঈশ্বরের রাজ্য৷
17الحق اقول لكم من لا يقبل ملكوت الله مثل ولد فلن يدخله
17আমি তোমাদের সত্যি বলছি, যদি কেউ শিশুর মতো ঈশ্বরের রাজ্যকে গ্রহণ না করে তবে সে কোনমতে তার মধ্যে প্রবেশ করতে পারবে না!’
18وسأله رئيس قائلا ايها المعلّم الصالح ماذا اعمل لأرث الحياة الابدية.
18ইহুদীদের একজন দলনেতা তাঁকে জিজ্ঞেস করল, ‘হে সদগুরু, অনন্ত জীবন পেতে হলে আমাকে কি করতে হবে?’
19فقال له يسوع لماذا تدعوني صالحا. ليس احد صالحا الا واحد وهو الله.
19যীশু তাঁকে বললেন, ‘তুমি আমায় সত্ বলছ, কেন? ঈশ্বর ছাড়া আর কেউ সত্ নয়৷
20انت تعرف الوصايا. لا تزن. لا تقتل. لا تسرق. لا تشهد بالزور. اكرم اباك وامك.
20তুমি তো ঈশ্বরের সব আজ্ঞা জান, ব্যভিচার কোর না, নরহত্যা কোর না, চুরি কোর না, মিথ্যা সাক্ষী দিও না, তোমরা বাবা-মাকে সম্মান কোর৷”
21فقال هذه كلها حفظتها منذ حداثتي.
21সে বলল, ‘আমি ছোটবেলা থেকেই সে সব পালন করে আসছি৷’
22فلما سمع يسوع ذلك قال له يعوزك ايضا شيء. بع كل مالك ووزع على الفقراء فيكون لك كنز في السماء وتعال اتبعني.
22একথা শুনে যীশু তাকে বললেন, ‘কিন্তু তোমার মধ্যে একটি বিষয়ের এখনও ত্রুটি আছে৷ তোমার যা কিছু আছে সে সব বিক্রি করে তা গরীবদের মধ্যে বিলিয়ে দাও, তাহলে স্বর্গে তোমার ধন-সম্পদ জমা হবে, তারপর আমায় অনুসরণ কর৷’
23فلما سمع ذلك حزن لانه كان غنيا جدا.
23কিন্তু এই কথা শুনে তার খুবই দুঃখ হল, কারণ তার প্রচুর ধন-সম্পদ ছিল৷
24فلما رآه يسوع قد حزن قال ما اعسر دخول ذوي الاموال الى ملكوت الله.
24যীশু তাকে দুঃখিত হতে দেখে বললেন, ‘যাদের ধন-সম্পদ আছে তাদের পক্ষে ঈশ্বরের রাজ্যে প্রবেশ করা কত কঠিন!
25لان دخول جمل من ثقب ابرة ايسر من ان يدخل غني الى ملكوت الله.
25হ্যাঁ, একজন ধনীর পক্ষে ঈশ্বরের রাজ্যে প্রবেশ করা অপেক্ষা ছুঁচের মধ্য দিয়ে উটের পার হওযা সহজ৷’
26فقال الذين سمعوا فمن يستطيع ان يخلص.
26য়ে সব লোক একথা শুনল তারা বলে উঠল, ‘তাহলে কে উদ্ধার পেতে পারে?’
27فقال غير المستطاع عند الناس مستطاع عند الله
27যীশু বললেন, ‘মানুষের পক্ষে যা সন্ভব নয় ঈশ্বরের পক্ষে তা সন্ভব৷’
28فقال بطرس ها نحن قد تركنا كل شيء وتبعناك.
28তখন পিতর বললেন, ‘দেখুন, আমরা তো সব কিছু ছেড়ে ছুড়ে আপনার অনুসারী হয়েছি৷’
29فقال لهم الحق اقول لكم ان ليس احدا ترك بيتا او والدين او اخوة او امرأة او اولادا من اجل ملكوت الله.
29যীশু তখন তাদের বললেন, ‘আমি তোমাদের সত্যি বলছি যাঁরা ঈশ্বরের রাজ্যের জন্য ঘর-বাড়ি, স্ত্রী, ভাই-বোন, মা-বাবা কিংবা ছেলে-মেয়ে ত্যাগ করেছে,
30الا ويأخذ في هذا الزمان اضعافا كثيرة وفي الدهر الآتي الحياة الابدية
30তারা প্রত্যেকে এ জীবনেই সেই সব বহুগুণে ফিরে পাবে, এছাড়া আগামী যুগে লাভ করবে অনন্ত জীবন৷’
31واخذ الاثني عشر وقال لهم ها نحن صاعدون الى اورشليم وسيتم كل ما هو مكتوب بالانبياء عن ابن الانسان.
31যীশু তাঁর বারোজন প্রেরিতকে একপাশে ডেকে নিয়ে গিয়ে বললেন, ‘শোন! আমরা জেরুশালেমে যাচ্ছি; আর ভাববাদীরা মানবপুত্রের বিষয়ে যা কিছু লিখে গেছেন, সে সবই পূর্ণ হবে৷
32لانه يسلم الى الامم ويستهزأ به ويشتم ويتفل عليه
32হ্যাঁ, অইহুদীদের হাতে তাঁকে তুলে দেওযা হবে, তারা তাঁকে উপহাস করবে, গালাগালি দেবে, তাঁর গায়ে থুতু ছেটাবে৷
33ويجلدونه ويقتلونه وفي اليوم الثالث يقوم.
33তারা তাঁকে কশাঘাত করবে ও শেষ পর্যন্ত হত্যাই করবে; আর তৃতীয় দিনে মৃত্যুর মধ্য থেকে তিনি পুনরুত্থিত হবেন৷’
34واما هم فلم يفهموا من ذلك شيئا وكان هذا الأمر مخفى عنهم ولم يعلموا ما قيل
34তিনি কি বলতে চাইছেন, প্রেরিতেরা কিন্তু তার কিছুই বুঝতে পারলেন না৷ তিনি য়ে কি বলছেন তা তাঁরা বুঝতে পারলেন না, কারণ এসব কথার অর্থ তাদের কাছে গোপন রাখা হয়েছিল৷
35ولما اقترب من اريحا كان اعمى جالسا على الطريق يستعطي.
35যীশু যখন যিরীহোর কাছাকাছি পৌঁছালেন, তখন সেখানে রাস্তার ধারে বসে একজন অন্ধ ভিক্ষা করছিল৷
36فلما سمع الجمع مجتازا سأل ما عسى ان يكون هذا.
36অনেক লোকজন যাওযার আওযাজ শুনে সেই ভিখারী ব্যাপার কি তা জিজ্ঞাসা করল৷
37فاخبروه ان يسوع الناصري مجتاز.
37লোকেরা তাঁকে বলল, ‘নাসরতীয় যীশু সেখান দিয়ে যাচ্ছেন৷’
38فصرخ قائلا يا يسوع ابن داود ارحمني.
38তখন সে চিত্‌কার করে বলে উঠল, ‘হে দাযূদের বংশধর যীশু, আমাকে দযা করুন৷’
39فانتهره المتقدمون ليسكت. اما هو فصرخ اكثر كثيرا يا ابن داود ارحمني.
39য়ে সব লোক সেই ভীড়ের সামনে ছিল তারা তাকে চুপ করতে বলল, কিন্তু সে আরও চিত্‌কার করে বলল, ‘হে দাযূদের বংশধর আমায় দযা করুন!’
40فوقف يسوع وامر ان يقدم اليه. ولما اقترب سأله
40যীশু থেমে গেলেন, তিনি সেই অন্ধকে তাঁর কাছে নিয়ে আসতে বললেন৷ সেই অন্ধ তাঁর কাছে এলে পর তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন,
41قائلا ماذا تريد ان افعل بك. فقال يا سيد ان ابصر.
41‘তুমি কি চাও? তোমার জন্য আমি কি করব?’ সে বলল, ‘প্রভু, আমি য়েন দেখতে পাই৷’
42فقال له يسوع ابصر. ايمانك قد شفاك.
42যীশু তাকে বললেন, ‘বেশ! তুমি চোখে দেখতে পাও, তোমার বিশ্বাসই তোমাকে সুস্থ করল৷’
43وفي الحال ابصر وتبعه وهو يمجد الله. وجميع الشعب اذ رأوا سبحوا الله
43সঙ্গে সঙ্গে সে দেখতে পেল আর ঈশ্বরের প্রশংসা করতে করতে যীশুর পেছনে পেছনে চলল৷ যাঁরা এই ঘটনা দেখল তারা ঈশ্বরের প্রশংসা করতে লাগল৷