1এরপর পঞ্চাশত্তমীর দিনটি এল, সেই দিনটিতে প্রেরিতেরা সকলে একই জায়গায় সমবেত ছিলেন৷2সেই সময় হঠাত্ আকাশ থেকে ঝোড়ো হাওযার শব্দের মত প্রচণ্ড একটা শব্দ শোনা গেল, আর য়ে ঘরে তাঁরা বসেছিলেন, সেই ঘরের সর্বত্র তা ছড়িয়ে গেল৷3তাঁরা তাঁদের সামনে আগুনের শিখার মতো কিছু দেখতে পেলেন, সেই শিখাগুলি তাদের উপর ছড়িয়ে পড়ল ও পৃথক পৃথক ভাবে তাঁদের প্রত্যেকের উপর বসল৷4তাঁরা পবিত্র আত্মায় পূর্ণ হলেন আর ভিন্ন ভাষায় কথা বলতে লাগলেন৷ পবিত্র আত্মাই তাদের এইভাবে কথা বলার শক্তি দিলেন৷5সেই সময় প্রত্যেক জাতির থেকে ধার্মিক ইহুদীরা এসে জেরুশালেমে বাস করছিল৷6সেই শব্দ শুনে বহুলোক সেখানে এসে জড়ো হল৷ তারা সকলে হতবাক হয়ে গেল, কারণ প্রত্যেকে তাদের নিজের নিজের ভাষায় প্রেরিতদের কথা বলতে শুনছিল৷7এতে তারা আশ্চর্য হয়ে পরস্পর বলতে লাগল, ‘দেখ! এই য়ে লোকেরা কথা বলছে, এরা সকলে গালীলের লোক নয় কি!8তবে আমরা কেমন করে ওদের প্রত্যেককে আমাদের নিজের নিজের মাতৃভাষায় কথা বলতে শুনছি?9এখানে আমরা যাঁরা আছি, আমরা ভিন্ন ভিন্ন দেশের লোক; পার্থীয়, মাদীয়, এলমীয়, মিসপতামিযা, যিহূদিযা, কাপ্পাদকিযা, পন্ত, আশিযা, ফরুগিযা, পাম্ফুলিযা ও মিশর,10কুরীমীর লুবিযার কাছে কিছু অঞ্চলের লোক, রোম থেকে এসেছে এমন অনেক লোক এবং ইহুদী বা ইহুদী ধর্মে দীক্ষিত অনেকে৷11ক্রীতীয় ও আরবীয় আমরা সকলেই আমাদের মাতৃভাষায় ঈশ্বরের মহাপরাক্রান্ত কাজের বর্ণনা এদের মুখে শুনেছি৷’12তারা হতবুদ্ধি হয়ে বিস্ময়ের সঙ্গে পরস্পর বলাবলি করতে লাগল, ‘এর অর্থ কি?13কিন্তু অন্য লোকেরা বিদ্রূপের ভঙ্গীতে বলতে লাগল, ‘ওরা দ্রাক্ষারস পান করে মাতাল হয়েছে৷’14তখন পিতর ঐ এগারো জন প্রেরিতের সঙ্গে উঠে দাঁড়িয়ে জোর গলায় তাঁদের উদ্দেশ্যে বললেন, ‘হে আমার ইহুদী ভাইয়েরা, আজ জেরুশালেমে যত লোক বাস করেন তাদের সকলের উদ্দেশ্যে বলছি, আপনাদের এর অর্থ জানা দরকার৷15আপনারা যা মনে করছেন তা নয়, এই লোকেরা কেউ মাতাল নয়, কারণ এখন মাত্র সকাল ন’টা৷16কিন্তু ভাববাদী য়োয়েল এবিষয়েই বলেছেন,17‘ঈশ্বর বলছেন: শেষের দিনগুলিতে এরকমই হবে; শেষকালে আমি সকল লোকের উপরে আমার আত্মা ঢেলে দেব, তাতে তোমাদের ছেলেমেয়েরা ভাববাণী বলবে, তোমাদের যুবকেরা দর্শন পাবে, আর তোমাদের বৃদ্ধ লোকেরা স্বপ্ন দেখবে৷18হ্যাঁ, আমি আমার সেবকদের, স্ত্রী ও পুরুষ সকলের উপরে আমার আত্মা ঢেলে দেব, আর তারা ভাববানী বলবে৷19আমি উর্দ্ধে আকাশে বিস্ময়কর সব লক্ষণ দেখাবো ও নীচে পৃথিবীতে নানা অদ্ভুত চিহ্ন, রক্ত, আগুন ও ধোঁযার কুণ্ডলী দেখাবো৷20প্রভুর সেই মহান ও মহিমাময় দিন আসার আগে, সূর্য় কালো ও চাঁদ রক্তের মতো লাল হয়ে যাবে৷21আর য়ে কেউ প্রভুর নামে ডাকবে, সে উদ্ধার পাবে৷’য়োয়েল 2:28-3222‘হে ইহুদী ভাইয়েরা, একথা শুনুন; নাসরতীয় যীশুর দ্বারা ঈশ্বর বহু অলৌকিক ও আশ্চর্য কাজ করে আপনাদের কাছে প্রমাণ দিয়েছেন য়ে তিনি সেই ব্যক্তি য়াঁকে ঈশ্বর পাঠিয়েছেন; আর আপনারা এই ঘটনাগুলি জানেন৷23যীশুকে আপনাদের হাতে সঁপে দেওযা হল, আর আপনারা তাঁকে হত্যা করলেন৷ মন্দ লোকদের দিয়ে আপনারা তাঁকে ক্রুশের উপর পেরেক বিদ্ধ করলেন৷ ঈশ্বর জানতেন য়ে এসব ঘটবে; আর তাই ছিল ঈশ্বরের পরিকল্পনা, যা তিনি বহুপূর্বেই নিরূপণ করেছিলেন৷24যীশু মৃত্যু যন্ত্রণা ভোগ করলেন, কিন্তু ঈশ্বর সেই বিভীষিকা থেকে তাঁকে উদ্ধার করলেন৷ ঈশ্বর যীশুকে মৃতদের মধ্য থেকে তুলে আনলেন৷ মৃত্যু যীশুকে তার কবলে রাখতে সক্ষম হল না৷25কারণ দাযূদ যীশুর বিষয়ে বলেছিলেন: ‘আমি প্রভুকে সবসময়ই আমার সামনে দেখেছি; আমাকে স্থির রাখতে তিনি আমার ডানদিকে অবস্থান করছেন৷26এইজন্য আমার অন্তর আনন্দিত, আর আমার জিভ উল্লাস করে৷ আমার এই দেহ ও প্রত্যাশায় জীবিত থাকবে৷27কারণ তুমি আমার প্রাণ মৃত্যুলোকে পরিত্যাগ করবে না৷ তুমি তোমার পবিত্র ব্যক্তিকে ভয় পেতে দেবে না৷28তোমার সান্নিধ্যে আমার জীবন তুমি আনন্দে ভরিয়ে দেবে৷ গীতসংহিতা 16:8-1129‘আমার ভাইয়েরা, আমাদের সেই শ্রদ্ধেয় পূর্বপুরুষ দাযূদের বিষয়ে আমি দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে পারি য়ে, তিনি মারা গেছেন ও তাঁকে কবর দেওযা হয়েছে, আর আজও তাঁর কবর আমাদের মাঝে আছে৷30কিন্তু তিনি একজন ভাববাদী ছিলেন এবং জানতেন ঈশ্বর শপথ করে এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন য়ে, তাঁর বংশের একজনকে তাঁরই মতো রাজা করে সিংহাসনে বসাবেন৷31পরে কি হবে তা আগেই জানতে পেরে দাযূদ যীশুর পুনরুত্থানের বিষয়ে বলেছিলেন: ‘তাঁকে মৃত্যুলোকে পরিত্যাগ করা হয় নি বা তাঁর দেহ কবরের মধ্যে ক্ষয় প্রাপ্ত হয় নি৷’32কিন্তু ঈশ্বর মৃত্যুর পর যীশুকেই পুনরুত্থিত করেছেন; আর আমরা সকলে এই ঘটনার সাক্ষী আছি৷ আমরা সকলে তাঁকে দেখেছি৷33যীশুকে স্বর্গে তুলে নেওযা হল; এখন যীশু ঈশ্বরের কাছে তাঁর ডানদিকে অবস্থান করছেন৷ পিতা যীশুকে পবিত্র আত্মা দিয়েছেন, পিতা তাঁকে সেই পবিত্র আত্মা দেবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন৷ এখন যীশু সেই পবিত্র আত্মাকে ঢেলে দিলেন, তোমরা এখন তাই দেখছ ও শুনছ৷34কারণ দাযূদ স্বর্গারোহন করেন নি, আর তিনি নিজে একথা বলছেন, ‘প্রভু ঈশ্বর আমার প্রভুকে বলছেন;35য়ে পর্যন্ত না আমি তোমার শত্রুদের তোমার পা রাখার জায়গায় পরিণত করি, তুমি আমার ডানদিকে বস৷’গীতসংহিতা 110:136‘তাই ইস্রায়েলের সমস্ত পরিবার নিশ্চিতভাবে জানুক য়ে য়াঁকে আপনারা ক্রুশবিদ্ধ করেছিলেন, সেই যীশুকেই ঈশ্বর প্রভু ও খ্রীষ্ট উভয়ই করেছেন৷’37লোকেরা এই কথা শুনে খুবই দুঃখিত হল৷ তারা পিতর ও অন্যান্য প্রেরিতদের বলল, ‘ভাইয়েরা, আমরা কি করব?’38পিতর তাঁদের বললেন, ‘আপনারা মন-ফিরান, আর প্রত্যেকে পাপের ক্ষমার জন্য যীশু খ্রীষ্টের নামে বাপ্তাইজ হোন, তাহলে আপনারা দানরূপে এই পবিত্র আত্মা পাবেন৷39কারণ এই প্রতিশ্রুতি আপনাদের জন্য, আপনাদের সন্তানদের জন্য আর যাঁরা দূরে আছে তাদেরও জন্য৷ আমাদের ঈশ্বর প্রভু তাঁর নিজের কাছে যাদের ডেকেছেন, এই দান তাদের সকলের জন্য৷’40পিতর তাঁদের আরো অনেক কথা বলে সাবধান করে দিলেন; তিনি তাঁদের অনুনয়ের সুরে বললেন, ‘বর্তমান কালের মন্দ লোকদের থেকে নিজেদের বাঁচান!’41যাঁরা পিতরের কথা গ্রহণ করলেন, তাঁরা বাপ্তিস্ম নিলেন৷ এর ফলে সেদিন কম বেশী তিন হাজার লোক খ্রীষ্টবিশ্বাসীবর্গের সঙ্গে যুক্ত হলেন৷42বিশ্বাসীরা প্রায়ই একত্র হয়ে মনোয়োগের সঙ্গে প্রেরিতদের শিক্ষা গ্রহণ করতেন৷ বিশ্বাসীবর্গ নিজেদের মধ্যে সব কিছু ভাগ করে নিতেন এবং একই সঙ্গে আহার ও প্রার্থনা করতেন৷43প্রেরিতেরা অনেক অলৌকিক ও আশ্চর্য কাজ করতে লাগলেন; প্রত্যেকের অন্তরে ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে গভীর ভক্তি ছিল৷44বিশ্বাসীরা সকলে একসঙ্গে থাকতেন এবং সবকিছু নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিতেন৷45তাঁরা তাঁদের স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে, যার য়েমন প্রযোজন সেই অনুসারে ভাগ করে নিতেন৷46তাঁরা প্রতিদিন মন্দির প্রাঙ্গণে গিয়ে একত্রিত হতেন, একই উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে তারা সেখানে য়েতেন৷ তাঁরা তাঁদের বাড়িতে একসঙ্গে খাওযা-দাওযা করতেন আর ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিয়ে আনন্দের সঙ্গে খাদ্য় গ্রহণ করতেন৷47বিশ্বাসীরা ঈশ্বরের প্রশংসা করতেন, আর সকলেই তাঁদের ভালোবাসতেন৷ প্রতিদিন অনেকে উদ্ধার লাভ করছিলেন আর যাঁরা উদ্ধার লাভ করছিলেন তাদেরকে প্রভু বিশ্বাসীবর্গের সঙ্গে যুক্ত করতে থাকলেন৷